শৈশব, কৈশোর, যৌবন ও বার্ধক্য— মানুষের জীবনে প্রতিটি সময়ের আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তবে যৌবনকে বলা যায় জীবনের সবচেয়ে শক্তিশালী অধ্যায়। এ সময় মানুষ শারীরিকভাবে সক্ষম থাকে, নানা কাজে আগ্রহ ও উদ্যম থাকে এবং নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য সবচেয়ে বেশি সুযোগ পায়। এই শক্তি ও সামর্থ্য যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে ব্যয় করা যায়, তাহলে তা দুনিয়া ও আখিরাত দুই জীবনের জন্যই কল্যাণের কারণ হতে পারে।
ইসলাম যৌবনকে শুধু উপভোগের সময় হিসেবে নির্ধারণ করেনি বরং দায়িত্বশীলতা, আত্মসংযম ও ইবাদতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়কাল হিসেবে বিবেচনা করেছে। কারণ, যৌবনে মানুষের সামনে যেমন ভালো কাজ করার অনেক সুযোগ থাকে, তেমনি প্রবৃত্তির টান ও বিভিন্ন ধরনের পাপের আকর্ষণও প্রবল থাকে। এমন পরিস্থিতিতে একজন তরুণ নিজের ইচ্ছা ও প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে আল্লাহর আনুগত্যে নিজেকে নিয়োজিত করলে তার ইবাদতের মর্যাদা অনেক বেশি।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন সাত শ্রেণির মানুষকে তার আরশের ছায়ায় আশ্রয় দেবেন, যেদিন তার ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না। তাদের একজন হলো এমন যুবক, যার যৌবন আল্লাহর ইবাদতে অতিবাহিত হয়েছে। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)।
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, যৌবনে ইবাদতের গুরুত্ব কতটা বেশি। একজন তরুণের সামনে পাপ ও প্রবৃত্তির পথে যাওয়ার অসংখ্য সুযোগ থাকতে পারে। কিন্তু সে যদি সেসব থেকে দূরে থেকে নিজেকে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া, সৎকাজ এবং মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত করে, তাহলে তার এই আত্মসংযম আল্লাহর কাছে বিশেষ মর্যাদা পেতে পারে।
যৌবন চিরস্থায়ী নয়। সময়ের সঙ্গে শরীর দুর্বল হবে, কর্মক্ষমতা কমে আসবে এবং বার্ধক্য মানুষের দরজায় কড়া নাড়বে। তাই ইবাদতের জন্য বার্ধক্য পর্যন্ত অপেক্ষা করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। অনেকেই মনে করেন, এখন তো বয়স কম, পরে নিয়মিত নামাজ পড়ব, কোরআন পড়ব, তওবা করব। কিন্তু মৃত্যু কখন আসবে, তা কেউ জানে না। তাই ইবাদতের জন্য সবচেয়ে ভালো সময় এখনই।
যৌবনে গড়ে তোলা ভালো অভ্যাস পরবর্তী জীবনেও মানুষকে আল্লাহর পথে অটল থাকতে সাহায্য করে। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, বাবা-মায়ের সেবা, হালাল উপার্জনের চেষ্টা, দৃষ্টির হেফাজত, পাপ থেকে দূরে থাকা এবং মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ—এসব অভ্যাস একজন তরুণের জীবনকে সুন্দর করে তুলতে পারে। তবে যৌবনে ইবাদত মানে শুধু নফল নামাজ বা দীর্ঘ সময় মসজিদে থাকা নয়। নিজের পড়াশোনা, কাজ, পরিবার ও সামাজিক দায়িত্বও যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে পালন করা হয়, সেটিও ইবাদতে পরিণত হতে পারে। শর্ত হলো কাজটি হতে হবে বৈধ এবং নিয়ত হতে হবে সৎ।
তাই যৌবনের শক্তি, সময় ও সামর্থ্যকে অবহেলায় নষ্ট না করে আল্লাহর আনুগত্যে কাজে লাগানো উচিত। যে তরুণ জীবনের সবচেয়ে শক্তিশালী সময়টুকু আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করতে পারে, তার সেই ইবাদত ভবিষ্যতের জন্য এক অমূল্য সঞ্চয় হয়ে থাকবে। দুনিয়ার অর্জন একদিন শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা আমল পরকালে সবচেয়ে বড় সম্পদ হয়ে দাঁড়াবে।
খুলনা গেজেট/এএজে

